মেসি জাদুতে ঐতিহাসিক জয় ইন্টার মায়ামির

New-Project-15-4.jpg

মেসি জাদুতে ঐতিহাসিক জয় ইন্টার মায়ামির

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

ক্লাব বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ পোর্তোর বিপক্ষে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে মেসির দল ইন্টার মায়ামি। বৃহস্পতিবার রাতে হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের নায়ক স্বয়ং লিওনেল মেসি, যিনি একটি চমৎকার ফ্রি কিক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইন্টার মায়ামির পক্ষে ছিল না। খেলার অষ্টম মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে পোর্তোকে এগিয়ে দেন স্যামু আগেহোয়া। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে পাঠান এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মায়ামি, যখন মেসির নিখুঁত থ্রু পাসে ওয়ান-অন-ওয়ানে পেয়ে যান লুইস সুয়ারেজ। কিন্তু গোলের সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে এক গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে মায়ামি।

বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ইন্টার মায়ামি ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে সমতায় ফেরে। এক টানা আক্রমণের ফলস্বরূপ গোল করেন সেগোভিয়া। এর মাত্র সাত মিনিট পর, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে। পোর্তোর ডিফেন্ডার রদ্রিগো মোরা ডি বক্সের বাইরে ফাউল করেন লিওনেল মেসিকে। ফলস্বরূপ মেসির সামনে আসে ফ্রি কিক নেওয়ার সুযোগ। সেখান থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কার্ভে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই গোলের মাধ্যমে মেসি নিজের ফ্রি কিক গোল সংখ্যা ৬৮-তে নিয়ে গেলেন। এ তালিকায় তার উপরে রয়েছেন কেবল পেলে (৭০) ও জুনিনিও (৭৭)। শুধু তাই নয়, ফিফার আয়োজিত প্রতিযোগিতায় এটি ছিল মেসির ২৫তম গোল, যা তাকে ফিফা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়েছে।

ম্যাচ শেষে আনন্দিত মেসি বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য ঐতিহাসিক। ক্লাব বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি আমাদের প্রথম জয়, এবং আমরা দল হিসেবে যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি গর্বিত।” কোচ মাস্কারেনো বলেন, “মেসির নেতৃত্ব, আগ্রাসী মনোভাব এবং ক্ষুধাই আজকের জয় এনে দিয়েছে।”

এই জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে টেবিল টপার ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরেসের, যারা সমান সংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে, কে গ্রুপ সেরা হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাবে।

ইন্টার মায়ামির এই জয় শুধু একটি ক্লাবের সাফল্য নয়, বরং উত্তর আমেরিকার ফুটবলের জন্য একটি বড় বার্তা। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে তারা দেখিয়ে দিলো—ফুটবল মানচিত্রে আমেরিকার ক্লাবগুলোও উঠে আসছে নতুন উচ্চতায়। বিশেষ করে মেসির নেতৃত্বে এই দলটি যে কতটা কার্যকর এবং ভয়ংকর হতে পারে, তা বুঝিয়ে দিল পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচটি। তার ফ্রি কিক গোলটি যেন আধুনিক ফুটবলে ক্লাসিকের সংজ্ঞা হয়ে উঠেছে।

তবে শেষ কথা এখনো বলা হয়নি। পরবর্তী ম্যাচে পালমেইরেসের বিপক্ষে জয় বা ড্র—যেকোনো কিছুই গ্রুপ পর্ব উতরে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু সেখানে জয় না এলে অন্যান্য ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতে পারে মায়ামিকে। তাই মেসিদের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি বড় পরীক্ষা।

Leave a Reply

scroll to top