আট উপদেষ্টার সীমাহীন দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ দিতে পারব, সাবেক সচিব আব্দুস সাত্তার

1754702078.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের আটজন উপদেষ্টার ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র প্রমাণ নিজের কাছে থাকার দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অবসরপ্রাপ্ত এই সচিবের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা বদলি হয় না।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। তবে উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। ৮২ ব্যাচের এই সাবেক বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা বর্তমানে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি।

‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও আগামী দিনের জনপ্রশাসন’ শীর্ষক সেমিনারটি বিকেল চারটায় শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। এতে প্রশাসন ক্যাডারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও আট উপদেষ্টার দুর্নীতির প্রমাণ আছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। “একজন উপদেষ্টার এপিএসের অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো একটি মন্ত্রণালয় নূরজাহান বেগম চালাতে পারেন কি না। একইভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় একজন অনভিজ্ঞ উপদেষ্টার হাতে থাকা উচিত কি না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছরে দুর্নীতি কমেনি, বরং বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি স্কুলের জমির নামজারিতে ৩০ লাখ টাকা চেয়েছেন এবং ঢাকার পাশের একজন ইউএনও একটি কারখানার লে–আউট পাশ করতে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, গত বছর ৫ আগস্টের পর হাজার হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী তাদের রাজনৈতিক দলে ছুটে আসেন। তবে তারেক রহমান নির্দেশ দেন, ইন–সার্ভিস কোনো কর্মকর্তা দলীয় অফিসে না এসে সমস্যার সমাধানের জন্য অফিসার্স ক্লাবে আসবেন—এ মর্মে নোটিশও টাঙানো হয়।

সাড়ে তিন ঘণ্টার আলোচনায় বিগত সরকারের সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম–দুর্নীতির প্রসঙ্গ ওঠে আসে। বক্তারা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা যেন ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করেন, সে আহ্বান জানান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা লাসনা কবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক শাফিউল ইসলাম, এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি কর্মকমিশনের সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম।

 

Leave a Reply

scroll to top