পাহাড়ে ভোটের আমেজ, প্রচারে এগিয়ে বিএনপি-এনসিপি

BNP-NCP-2602010908-1.webp
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনি আমেজ। পাহাড়, বন ও নদীবেষ্টিত এই জেলায় ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মারমা, চাকমা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খুমি, লুসাই, খেয়াং, পাংখোয়া, চাক, বাঙালিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমঅধিকার, যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বান্দরবান সংসদীয় আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ। বিএনপির সাচিং প্রু জেরী ছাড়া অন্য তিনজন প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রচারে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি ও এনসিপির প্রার্থীরা। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রচার সাধারণ ভোটারদের চোখে কম দৃশ্যমান।

তরুণ ভোটার মং এ প্রু মারমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বহুজাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দা সুই মং চিং মারমা মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবকে জেলার প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে মামুনুর রশীদ বলেন, পরিকল্পিত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী জেলার প্রায় সব উপজেলায় গণসংযোগ ও জনসভা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিনও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও যোগাযোগ, পর্যটন উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বান্দরবান আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ ও নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। নতুন ভোটার ৭ হাজার ৪৬৯ জন। মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Leave a Reply

scroll to top