ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—শান্তি, স্বস্তি ও স্থিতিশীল জীবন। তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় পাঁচ বছর ধরে রিকশা চালানো মিজান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে নিম্নআয়ের মানুষের উপকার হবে। একই এলাকার আরেক রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
সিএনজি অটোরিকশাচালক মারুফ বলেন, পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কোথাও গাড়ি দাঁড় করালেই চাঁদা দিতে হয়, যা তাদের আয়কে কমিয়ে দিচ্ছে। ফার্মগেটে রাইড সেবা দেওয়া মোটরসাইকেল চালক নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। ফলে অনেকেই বিদেশমুখী হচ্ছেন। নতুন সরকারকে কর্মসংস্থান বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মিরপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সিদ্দিক বলেন, ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকতে সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো জরুরি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার বলেন, চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কৃষক মোস্তফা জানান, সার ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে এসব কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘোষিত কৃষি কার্ড প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও দেশে চাকরির নিশ্চয়তা না থাকায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাই নতুন সরকারকে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যখাত নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষের। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা টাঙ্গাইলের আরিফ হাসান বলেন, সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকট এবং চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নতুন সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করবে।