রাজধানীর শাহবাগে সভা চলাকালে পূর্ব লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কনভেনশন হলের তৃতীয় তলায় এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলার সমন্বয় সভা চলছিল। সভাকালে সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে হলের দ্বিতীয় তলায় এনসিপির মোহাম্মদপুর থানা ও বংশাল থানার নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ইউসুফ নামে বংশাল থানা এনসিপির একজন কর্মীর মাথা ফেটে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরা ছবি-ভিডিও নিতে গেলে এনসিপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, মাস তিনেক আগে বংশাল থানার এনসিপির পদপ্রার্থী ইমতিয়াজসহ কয়েকজন মোহাম্মদপুরে একটি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসার বিষয় নিয়ে কথা বলতে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঢাকা মহানগর উত্তরের শোয়েব নামে এক নেতাকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। শোয়েব রিয়ান নামে মোহাম্মদপুর থানা এনসিপির এক নেতাকে তাদের সাহায্য করতে বলেন।
তবে অভিযোগ আছে, রিয়ান বংশাল থানার নেতাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি বংশালের নেতাদের আটকে রাখারও চেষ্টা করা হয়। তবে তারা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রিয়ানের সঙ্গে টাকা ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কনভেনশন হলে রিয়ানকে দেখলে বংশালের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় ইমতিয়াজ টাকার কথা জিজ্ঞাসা করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়, এ সময় রিয়ানের ছোট ভাই ইউসুফকে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। এরপরেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চললেও এনসিপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখা যায়নি।
বংশাল থানা এনসিপির কর্মী সৌরভ বলেন, অনেক দিন ধরে রিয়ানকে ফোন করে টাকা চাওয়া হলে তিনি বারবার এড়িয়ে যেতেন, ফোন নম্বর ব্লক করে দিতেন। কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। আজকে তাকে কনভেনশন হলে দেখে তার কাছে টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মোহাম্মদপুরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে ইউসুফ নামে বংশাল থানার এক কর্মীর মাথা ফেটে যায়। এরপর আমরাও ওদের সাথে মারামারিতে জড়াই।
সৌরভ বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলমও জানেন। আহত ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার মাথায় ৩টা সেলাই পড়েছে। এ ছাড়া ৩ জনের মতো আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার নেতাকর্মীরা জানান, তিন মাস আগে ইমতিয়াজসহ বংশাল থানা থেকে কয়েকজন আসেন টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটা ঝামেলা নিয়ে। তারা যাদের সঙ্গে দেখা করতে আসে, তারাই তাদের আটকে দিতে চেয়েছিল। অথচ এখন আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে যে, আমরা তাদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়েছি।
তারা আরও বলেন, ওই ঘটনার পর রিয়ান দুর্ঘটনার কারণে বিছানায় ছিল অনেক দিন। আজকের ঘটনায় রিয়ানসহ ৩-৪ জন আহত হয়েছেন; তারা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এমএ





