মুজিববর্ষ উদযাপনে সরকারি তহবিলের দুর্নীতি ও তছরুপে এশিয়াটিক গ্রুপের সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি নানা কাজে তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এই রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. সাব্বির ইবনে আজম, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইসা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
এর আগে দায়ের করা এই রিটে অভিযোগ আনা হয়, গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের হাজার কোটি টাকার সরকারি বিজ্ঞাপনের টেন্ডার রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির মাধ্যমে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গণমাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারের অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নের নাম করে ক্যাম্পেইন ও বিজ্ঞাপন নির্মাণ এবং তা দেশে-বিদেশে প্রচার করা হয়। গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত এশিয়াটিকের ‘এমবিএ’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন সময় টিভি, একাত্তর টিভি, যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।
তদুপরি, ‘মুজিব’ সিনেমার বিশ্বব্যাপী প্রচারণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে শত শত কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। প্রচারণার কার্যক্রম চালাতে বিদেশে ‘এশিয়াটিক এফজেডই’ নামে পৃথক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে এশিয়াটিক গ্রুপ। সেখানে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করে বিদেশি মিডিয়ায় ‘মুজিব’ সিনেমার ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। এশিয়াটিক গ্রুপের ‘মাইন্ডশেয়ার’ ও ‘ফোরথট পিআর’ এসব কাজ বাস্তবায়ন করেছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বাজেট একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এশিয়াটিক গ্রুপ। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘নুর-যাকের পরিবারের দখলে বিজ্ঞাপন বাজার’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সাবেক তথ্য ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের দুর্নীতির সম্পৃক্ততা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনটিও মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের এ নির্দেশনা সরকারের কাছে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়নে উচ্চ আদালত সচেতন ও জোরালো অবস্থান নিয়েছে।