দুই কমিশনারসহ পাঁচ এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

5-Officer-NBR-2507040151.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘুষ, রাজস্ব ফাঁকি এবং দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমকে জানান, অনুসন্ধানে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন—কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা-পূর্ব)–এর কমিশনার কাজী মো. জিয়াউদ্দিন, বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, রাজশাহী কর অঞ্চল সার্কেল-৭–এর উপকর কমিশনার মো. মামুন মিয়া (বর্তমানে যুগ্ম কমিশনার), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, কর অঞ্চল-২, ঢাকার কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ, এই পাঁচজনের মধ্যে সেহেলা সিদ্দিকা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের মহাসচিব এবং লোকমান আহমেদ একজন সক্রিয় সদস্য।

এর আগে দুদক দুই দফায় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। ফলে তিন ধাপে মোট ১৬ জন এনবিআর কর্মকর্তা এখন সংস্থাটির নজরদারিতে।

দুদক বলছে, কর ফাঁকির সুযোগ করে দিতে কিছু কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। আবার ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো করদাতাদের হয়রানি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, এই অনুসন্ধান শুধু আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নয়, বরং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং নিকটাত্মীয়দের সম্পদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এনবিআরের অনেক কর্মকর্তা অবশ্য অভিযোগ করছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব নিয়ে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তবে দুদক বলছে, এসব অনুসন্ধান নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কিছু কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, যার সুনির্দিষ্ট উৎস নেই। প্রয়োজন হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন বোর্ডে উপস্থাপন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাভোগী একটি চক্র কর ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে। এনবিআরের মতো সংস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।

তবে একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, এসব অনুসন্ধান যেন রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা প্রশাসনিক সংকট থেকে উৎসারিত না হয়। এনবিআরের ভেতরেও স্বচ্ছতা, সংস্কার ও করদাতাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা যদি দুর্নীতিমুক্ত হয়, তাহলে অর্থনীতিও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন নাগরিকদের।

Leave a Reply

scroll to top