ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে এক লঞ্চে ধাক্কা দিয়েছে আরেকটি লঞ্চ। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘আসা যাওয়া-৫’ (ঢাকা ইলিশা) লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ‘এম ভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) লঞ্চ। ধাক্কায় যাত্রী দুজন পিষ্ট হন। আহত নারী বোরা আক্তার (২০) বরিশালের কাশিপুর যাচ্ছিলেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ ফয়সাল আহমেদ জানান, দুই লঞ্চের ঘষাঘষিতে নারী পানিতে পড়ে যান। তার অবস্থা গুরুতর, তবে সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সংঘর্ষে সম্ভবত একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে মেডিকেল সেবা দেওয়া হয়েছে।
নৌপুলিশ সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। লঞ্চের গায়ে রক্ত দেখা যায়, আরেকজনকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের ছুটির আগে যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। লঞ্চের ছাদেও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নজরদারি করছে যাতে কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।
যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকেই যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব ও বিজিবি সবাই চেষ্টা করছে যাত্রীদের নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে।
বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটকে সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নতুন সুবিধা চালু করেছে। ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিনের জন্য যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা, ১০০টি ট্রলি এবং ৪০টি হুইলচেয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ ভাড়া ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
আজ (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ৮০টি লঞ্চ এবং ঢাকায় এসেছে ৭৫টি লঞ্চ। রাতের জন্য মোট ১২০টির বেশি লঞ্চ দেশের ৩৭টি রুটে যাত্রা করবে।