ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ২৯৭টি আসনে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধন করা হয়েছে।
মাসিক বেতন ও ভাতা
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা ভাতা হিসেবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরিবহন সুবিধার জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পান, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
গাড়ি ও ভ্রমণ সুবিধা
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। দায়িত্বকালীন সময় সরকার নির্ধারিত শর্তে একজন সদস্য একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় আবার গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন ভাতা পান। সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা রয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা দেওয়া হয়।
দৈনিক ভাতা ও উপস্থিতি সুবিধা
সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করলে সংসদ সদস্যরা দৈনিক ভাতা পান। দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। অধিবেশন বা সভায় উপস্থিত থাকলে দৈনিক ৮০০ টাকা ভাতা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
চিকিৎসা, বীমা ও অনুদান সুবিধা
সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
এছাড়া সংসদ সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করতে হয়।
টেলিযোগাযোগ সুবিধা ও কর সুবিধা
টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়। আইনে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না।