কিশোরগঞ্জ শহরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জঞ্জাল, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

কিশোরগঞ্জ শহরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জঞ্জাল
নিজস্ব প্রতিবেদক অনন্য খান সাদিক, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্র বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে ইন্টারনেট ও ডিশ ক্যাবল অপারেটরদের তারের চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। এই এলোমেলো ঝুলন্ত তারের জট পৌরসভার সৌন্দর্য যেমন নষ্ট করছে, তেমনি বৈদ্যুতিক তারের সাথে জড়িয়ে থাকায় তা মারাত্মক প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের পৌরসভার রথখলা, গৌরাঙ্গ বাজার, স্টেশন রোড, একরামপুর,খরমপট্রি,উকিলপাড়া, বত্রিশসহ বিভিন্ন এলাকায় এই তারের জঞ্জাল তৈরি হয়েছে। অনেক খুঁটিতে এমন অবস্থা যে, কোনগুলো বৈদ্যুতিক তার, আর কোনগুলো ইন্টারনেট সার্ভিস ও ডিশ ক্যাবল অপারেটরদের তার, তা বুঝার উপায় নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝুলে থাকা তারের জঞ্জালে প্রায়ই আটকে যাচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। অনেক সময় ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় সড়কের ওপর ছিঁড়ে পড়ছে তারের জটলা। মৃদু বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়াতেই তার ছিঁড়ে পড়ে থাকে, তখন পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারের এই জঞ্জালের কারণে অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার দেখাও যায় না। ফলে মাঝেমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

পৌরসভার তেরীপট্রি রোড এলাকার ব্যবসায়ী সিদ্দিক বলেন, খুঁটিতে অগণিত তার ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। কোনটা বিদ্যুতের, কোনটা ইন্টারনেটের, বুঝতে পারি না। একটু বাতাস হলেই তারগুলো দুলতে থাকে। ভয় লাগে কখন কী হয়। একটু অসাবধান হলেই ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এলোমেলোভাবে ঝুলিয়ে রাখা এসব তার থেকে প্রায়ই ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

উঠে যাচ্ছে মাঠ পর্যায় থেকে এনআইডির বয়স সংশোধন

এদিকে মাল্টি ক্যাবল অপারেটরের স্থানীয় পরিচালক শোয়েব সাহেব বলেন, আমাদের তারের কারণে ঝটলা তৈরি হচ্ছে না। কারণ ক্যাবল অপারেটরদের মাত্র একটি তার। বাকি সব তার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের। মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অপ্রয়োজনীয় সব তার সরিয়ে নেওয়া হবে।’

শহরের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা বলেন, মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ গেলে সবচেয়ে নিরাপদ হতো। কিন্তু মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অপ্রয়োজনীয় সব তার সরিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আবুজর গিফারি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে অন্যান্য তার ঝুলিয়ে রাখা ঠিক না। কারণ এ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশকে জানান, পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “আমরা চাই, পৌরবাসী নিরাপদে থাকুক। সেজন্য এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এমএ

Leave a Reply

scroll to top