তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর, হাজারো পরিবার পানিবন্দি

sa_82.1755054139.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমার তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার বেশি। প্রবল স্রোতে পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলের দিকে ছুটে চলায় আশপাশের এলাকা দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে।

ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) তহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল ও চর গ্রামগুলো ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব স্লুইসগেটের মধ্যে ৪৪টি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখাড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়ন। এসব এলাকার বহু গ্রামে নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চর গ্রাম ঝাড়সিংশ্বরসহ বেশ কয়েকটি চর এলাকায় বন্যার পানি ঢুকেছে। ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির মতো মৌসুমি ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “প্রথমে পানি ধীরে ধীরে ঢুকছিল, কিন্তু এখন স্রোতের গতি ও পানির উচ্চতা দুটোই বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।”

লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলাতেও তিস্তার পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। নদীবেষ্টিত চর ও ভেতরের গ্রামগুলোতে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নৌকা বা অন্যান্য মাধ্যমে উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছেন।

ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “গতকাল পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে তা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে চলে গেছে। উজানের পানি এখনও বাড়ছে, তাই আমরা সব স্লুইসগেট খোলা রেখেছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

Leave a Reply

scroll to top