মাত্র সাত মাসের কার্যক্রমেই ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন নবগঠিত আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।
২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই ইউনিট। অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে রাজস্ব প্রশাসনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তারা।
সোমবার (১৪ জুলাই) এক প্রেস বিবৃতিতে এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এসব তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির তদন্তে নজরদারি জোরদার করেছে আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট। এরইমধ্যে ৬৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফাঁকিকৃত রাজস্ব আংশিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা ২৩১টি এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা মোট ফাঁকিকৃত রাজস্বের তুলনায় এ পরিমাণ এখনো সীমিত হলেও, এনবিআর বলছে—তাদের চলমান অনুসন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপের ফলে আরও বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধার সম্ভব হবে।
এনবিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এখনো গঠনতান্ত্রিকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জনবল, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই ইউনিট দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
সংস্থাটি বলছে, গোয়েন্দা ইউনিট একদিকে করদাতাদের স্বেচ্ছায় সঠিক কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করছে, অন্যদিকে কর ফাঁকি, অর্থ পাচার ও বেনামি সম্পদ অর্জনের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত যে ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—আয় গোপন করে ভুয়া হিসাব দাখিল, ভুয়া নামের পেছনে ব্যবসা পরিচালনা, বিদেশে অর্থ পাচার, লাভের অংশ গোপন করে কর ফাঁকি, এবং বিভিন্ন কর সুবিধার অপব্যবহার।
এনবিআর বলছে, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—দেশীয় রাজস্ব ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করা। গোয়েন্দা ইউনিটের প্রাথমিক সফলতা সেই লক্ষ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ফাঁকি রোধ এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এনবিআর।




