সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার রেকর্ড উত্থান

New-Project-17-4.jpg

সুইস ব্যাংক

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণে নাটকীয় উত্থান ঘটেছে ২০২৪ সালে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৪ সালের শেষে এই অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৩ গুণ।

এসএনবি জানায়, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশিদের নামে সুইস ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত ছিল ৫৯ কোটি ৮২ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা (প্রতি ফ্রাঁ ১৫০ টাকা হিসেবে)। আর ২০২৩ সালের শেষে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২ কোটি ৬৪ লাখ ফ্রাঁ (প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা)।

এর আগে, ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের নামে সুইস ব্যাংকে জমা ছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ, ২০২৩ সালে হঠাৎ একটি বড় পতন দেখা গেলেও ২০২৪ সালে আবারও বড় মাত্রায় উত্থান ঘটেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই বিপুল অর্থের ৯৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নামে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার অংশ। অর্থাৎ, পুরো অর্থটিই ব্যক্তিগতভাবে পাচার হওয়া বা বেআইনি নয় বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, সুইস ব্যাংকের গোপনীয় নীতির সুযোগ নিয়ে বহু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনীতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি বহু বছর ধরে অবৈধ অর্থ পাচার করে আসছেন। তাই এই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ উৎস থেকে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একাধিকবার সুইজারল্যান্ডের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইইউ) সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য পায়নি।

সুইস কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা গোপনীয়তার নীতি অনুসরণ করে, তবে যদি যথাযথ প্রমাণসহ অপরাধমূলক অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ দেওয়া হয়, তাহলেই তারা তদন্তে সহযোগিতা করতে পারে।

বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে সুইস ব্যাংক জনপ্রিয় মূলত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে। গ্রাহকদের পরিচয় প্রকাশে তারা বাধ্য নয় এবং টাকার উৎস সম্পর্কেও তেমন কোনো অনুসন্ধান করা হয় না।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী চুক্তি ও চাপের মুখে সুইজারল্যান্ড কিছু নীতি শিথিল করেছে। ২০১৮ সাল থেকে তারা নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় শুরু করলেও বাংলাদেশ এখনো সেই তালিকায় নেই।

এসএনবির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে শুধু ব্যাংকিং হিসাবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। ব্যক্তিগত ভল্টে রাখা শিল্পকর্ম, স্বর্ণ, হীরা কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের হিসাব এখানে অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অন্য দেশের নামে অ্যাকাউন্ট খোলেন, সেটিও এই পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান আসলে একটি চোখে দেখা চূড়াবিন্দু, যার নিচে রয়েছে বহুমাত্রিক বাস্তবতা—ব্যাংকিং লেনদেন, কর ফাঁকি, সম্পদ পাচার, বা সঞ্চয়ের নিরাপদ গন্তব্য খোঁজা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অর্থ কোথা থেকে এলো, কে পাঠাল, তা স্পষ্টভাবে জানার জন্য সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক তথ্য চুক্তি এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

scroll to top