ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প

New-Project-14-5.jpg

যুদ্ধ নাকি আলোচনা? ইরান নিয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প প্রশাসন

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সপ্তম দিনে পা দিয়েছে। টানটান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে সামরিক হামলার ব্যাপারে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ব্রিফিং রুম থেকে দেওয়া প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের বক্তব্যে এই তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ট্রাম্প এখনো সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রাধান্য দিতে চান। তবে ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল না করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রেস সেক্রেটারি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এটা করতে পারি, আমি নাও করতে পারি।’ এই বিষয়টি নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।”

যুক্তরাজ্যসহ বিশ্ব নেতাদের কূটনৈতিক আহ্বান

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এখন সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে। সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে।”

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি ট্রান্সআটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে মতানৈক্যের জন্ম দিতে পারে। যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে সংঘাত এড়ানোর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

ওয়াশিংটনের আকাশে চক্কর দিয়েছে ‘ডুমস ডে’ নামের বিমান, যা সাধারণত পারমাণবিক যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে উড্ডয়ন করে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।

এই বিমানটিকে ডাকতে এ বার ‘অর্ডার ওয়ান’ সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতীতে কখনো হয়নি। এর আগে কেবল ২০০১ সালের ৯/১১ হামলা ও ১৯৯৫ সালের হারিকেন ঝড়ের সময় এই বিমানের উড্ডয়ন দেখা গিয়েছিল।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সোরোকা হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের আরাক, নাতাঞ্জ এবং তেহরানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনাগুলো।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া যাবে না।” অন্যদিকে খামেনি ইরানিদের বলেছেন, “আপনারা শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। ভয় দেখালে শত্রু কখনও পিছু হটবে না।”

কূটনৈতিক সমাধানে রাশিয়া-চীন একমত

ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তারা বলছেন, এই যুদ্ধের শেষ হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে, সহিংসতায় নয়।

ট্রাম্প প্রশাসন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কূটনৈতিক আলোচনার ওপর ভিত্তি করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই দিক নির্ধারণ করবেন ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতি দ্রুত যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

Leave a Reply

scroll to top