দেশের রাজস্ব জাল বিস্তারে বড় সাফল্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সারা দেশে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট (মূসক) নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এনবিআরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩১ হাজার বেশি প্রতিষ্ঠান এই এক মাসে নিবন্ধিত হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অর্জনের কথা জানানো হয়।
সংস্থাটি জানায়, দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ মাসজুড়ে নিরলসভাবে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনা করেছে, যার ফলে এই অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে।
গত ৯ ডিসেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান চলতি মাসের মধ্যে এক লাখ নতুন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন। মাস শেষে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে মোট নিবন্ধনের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজারে পৌঁছাল।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার। গত কয়েক মাসে তা দ্রুত বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজারে। অর্থাৎ, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নেটের আওতায় এসেছে।
রাজস্ব বোর্ড মনে করছে, ভ্যাটের আওতা বাড়িয়েই দেশের মোট রাজস্বে বড় উল্লম্ফন ঘটানো সম্ভব। বর্তমানে মোট সংগৃহীত রাজস্বের ৩৮ শতাংশই আসে ভ্যাট থেকে। এই প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করতে সম্প্রতি ভ্যাট আইনে সংশোধন এনেছে সরকার। এখন থেকে বছরে যাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার বেশি, তাদের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে- যা আগে ছিল ৩ কোটি টাকা।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, দেশের প্রকৃত ব্যবসা-বাণিজ্যের তুলনায় ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখনো নগণ্য। ভ্যাট নেট শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি ব্যবসায়ীবান্ধব করতে কাজ করছে এনবিআর।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এখন ‘ই-ভ্যাট’ সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের জমা দেওয়া অতিরিক্ত ভ্যাট স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার (রিফান্ড) সুবিধাও চালু করা হয়েছে।





