নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তদবিরে আগের তদন্ত ধামাচাপা পড়লেও নতুন অনুসন্ধানে তার অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
কলেজে মাত্র ৩১ মাস দায়িত্ব পালনকালে সালমা আক্তার নানা খাতে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তদন্তে শুধু কাগজপত্রে অনিয়মের পরিমাণই ধরা পড়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে আসনের অতিরিক্ত ২৩৭ জন ভর্তি করে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। সহকর্মীর সম্মানি ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নম্বরপত্র জালিয়াতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়। কলেজ কক্ষে গরুপালন, অনুমতি ছাড়া গাছ কেটে বিক্রি, পুকুর ছাত্রলীগ নেতাদের লিজ দেওয়া এবং খেলাধুলা, উন্নয়ন, বিজ্ঞান ক্লাব, আইটি, রেড ক্রিসেন্ট ও চিকিৎসা তহবিলসহ অন্তত ২২টি খাত থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক ২০২২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২৫ দফা অভিযোগ করেন। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা সচিবের নির্দেশে তদন্ত শুরু হলেও তা আটকে যায়। উল্টো আব্দুর রাজ্জাককে ‘শিবির ক্যাডার’ আখ্যা দিয়ে বিভাগীয় মামলায় জড়ানো হয় এবং খাগড়াছড়ির রামগড় সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “দুদক যদি প্রথমেই সঠিকভাবে তদন্ত করত, সালমা আক্তার অনেক আগেই জেলে যেতেন। একজন অধ্যক্ষ যখন এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টাকা লুটপাট করেন, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।”
সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো তদন্তের নির্দেশ পুনরায় কার্যকর করা হলে মাউশির নতুন মহাপরিচালকের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। এতে সালমা আক্তারের অনিয়মের বিস্তৃত চিত্র বেরিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে আছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।





