ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ফাটল’, কাউন্টারটেররিজম প্রধানের পদত্যাগ

1773761215-7a19f569790d075388805436af69a8f6.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে আকস্মিক হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ হামলার সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এককভাবে নিয়েছেন—এমন আলোচনা চলছিল আগেই। এর মধ্যেই প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ‘ফাটল’ প্রকাশ্যে এলো।

ইরান ইস্যুতে চলমান সামরিক অভিযানের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেছেন ইউএস ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জোসেট কিন্ট।

বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ। কেন্টই প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি সরাসরি এ যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করলেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক চিঠিতে কেন্ট বলেন,
“বিবেকের তাড়নায় আমি এই ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশিত হয়েছে।

কেন্টের পদত্যাগে গোয়েন্দা মহলে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনাটি অনেক কর্মকর্তাকে অপ্রস্তুত করে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনে যুদ্ধ শুরু করতে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে তেমন পরিস্থিতি ছিল না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও এই যুদ্ধে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সমর্থন দিলেও এবার তারা অনেকটাই সংযত অবস্থানে রয়েছে। এমনকি কিছু দেশ তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

এর মধ্যে ইরানের প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু দুর্বলতাও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। ফলে হামলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতাহিয়াহু ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন।

এ পরিস্থিতিতে কেন্টের পদত্যাগ আরও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। একইভাবে, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, কেন্টের সঙ্গে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলছি এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন। চলতি মাসের শুরুতে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতায় তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে।

 

Leave a Reply

scroll to top