আর্থিক খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করলেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট

image-292341-1752553805.jpg
মো: আল মামুন

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতি বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে।”

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে জোহানেস জুট বলেন, “আপনি এবং আপনার দুর্দান্ত টিম চমৎকার কাজ করছে, ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে গড়ে ওঠা নিজের সম্পর্ক স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি দেশ।”

গত বছরের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জুট বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্য একটি আবেগঘন অধ্যায় ছিল।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

বিশ্বব্যাংকের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “যখন আমরা দায়িত্ব নেই, তখন দেশ যেন এক ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের অভিজ্ঞতা না থাকলেও উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেয়েছি, যেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।”

তরুণদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “গত জুলাইয়ে তরুণরা যা করেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল অসাধারণ। আজ আমরা জুলাই নারী দিবস পালন করছি, যেন তাদের ত্যাগ বৃথা না যায়।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাদের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশকে শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমুদ্র রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হোক।”

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তার নেতৃত্বে চালু হওয়া মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প এখন অনেক দেশ অনুসরণ করছে।”

তিনি জানান, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে এবং আগামী তিন বছরেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর নতুন পরিচালনায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”

তিনি জানান, “২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা ইন্ট্রা-কোম্পানি ঋণ ও শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগের মাধ্যমে হয়েছে।”

সূত্র: বাসস

Leave a Reply

scroll to top