অনেক উদ্যোগের পরও পাসপোর্ট জমা দিতে চরম দুর্ভোগ

13-91204e113ec5deda2802cacb13dd3b8f.jpg
মো: আল মামুন বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীতে পাসপোর্ট অফিসের সংখ্যা বাড়ানো, দালাল দমনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বাতিল—সবকিছুর পরও আবেদনকারীদের দুর্ভোগ কমছে না। আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে এখনও আবেদন জমা দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের।

অফিসে নবায়নের জন্য আসা এক পাসপোর্ট প্রত্যাশী জানান, সকাল ৯টায় ঢুকে বসার লাইনে বসতে হয়। প্রথমে এনআইডি ভেরিফিকেশন, তারপর কাগজপত্র চেক, সিল-সই শেষে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক—সব মিলিয়ে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, “সকাল ১০টায় ১১০ নম্বর সিরিয়াল পেলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার পর কাগজপত্র ঠিক আছে বলে সই-সিল হলো। এরপর বায়োমেট্রিক দিতে আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলো।”

আরেকজন আবেদনকারী বলেন, “তিন দফা লাইনে দাঁড়াতে হয়। বসার জায়গা অপ্রতুল, অনেক সময় টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শিশুকে নিয়ে এসেছিলাম, সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা এখনকার যুগে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

অভিযোগের জবাবে পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার দাবি করেন, আগের চেয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় কম লাগছে। তিনি বলেন, “এখন আরও আঞ্চলিক অফিস খোলা হয়েছে, ফলে আগারগাঁওয়ে চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু বিলম্ব হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, আগে প্রতিদিন আগারগাঁও অফিসে ১২০০ আবেদন আসলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে গড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ তে। আগে পাসপোর্ট হাতে পেতে দুই মাসেরও বেশি সময় লাগত, এখন সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যেই সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। তবে অফিসে এসে বায়োমেট্রিক ও কাগজপত্র জমা দিতে সময় বেশি লাগছে জনবল ঘাটতির কারণে। দুই বছর আগে ৪ হাজারের বেশি জনবল চাহিদা পাঠানো হলেও এখনও তা পূরণ হয়নি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ার সুযোগ নেই।”

এদিকে দালাল দমনে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগারগাঁও অফিসে দালালদের ছবি টাঙানো হয়েছে, আনসার সদস্যরা নিয়মিত মাইকিং করছেন। র‌্যাবের সহযোগিতায় অভিযানও চলছে। পাসপোর্ট অফিস বলছে, এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে উদ্যোগ থাকলেও আবেদনকারীদের দুর্ভোগ কমছে না। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—যেখানে প্রযুক্তি ও নতুন নিয়মে প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার কথা, সেখানে কেন এখনও লাইনে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হচ্ছে?

Leave a Reply

scroll to top