মেহেরপুরে তিন ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসা ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক বোর্ডিংয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী এক শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ওই মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক।

পুলিশ জানায়, মাদ্রাসা থেকে ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা জানান, তার ছেলে পঞ্চম শ্রেণির হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। বৃহস্পতিবার রাতে অন্য এক অভিভাবকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গভীর রাতে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করেন।

শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছে, ওই শিক্ষক তাকে এবং আরও দুই শিক্ষার্থীকে প্রায়ই গভীর রাতে ডেকে নিয়ে “খারাপ কাজ” করত। ঘটনার দিনও একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ মাদ্রাসা ঘেরাও করে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

এ সময় মাদ্রাসাটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এক নেতার মালিকানাধীন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, দলটির কিছু কর্মী মাদ্রাসা রক্ষায় এগিয়ে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে এবং পরে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা মুজিবনগর থানা ঘেরাও করে বিচার দাবি করে।

মুজিবনগর থানার ওসি জানান, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাহাজ উদ্দিন এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

তবে স্থানীয় জামায়াত নেতারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মো. খায়রুল বাশার বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য বিভ্রান্তিকর।

মাদ্রাসার এক শিক্ষকও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই নেতার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; বরং পরিচালনায় রয়েছেন তার পরিবারের অন্য সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও এমন অভিযোগ শোনা গেলেও তা গুরুত্ব পায়নি। এবারের ঘটনায় প্রমাণ সামনে আসায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, বোর্ডিং মাদ্রাসাগুলোতে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ নজরদারি নেই।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

এই ঘটনা আবারও আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD