বাংলাদেশ চলতি বছরের জুন মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নিয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার বা টাকার অঙ্কে ১৩ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তিন মাস আগের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ৭৩৫ কোটি ডলার, যা ৭ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সরকারি খাতের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৩৮ কোটি ডলারে, যদিও বেসরকারি খাতে ঋণ সামান্য কমে ১৯ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বর্তমানে মোট বৈদেশিক ঋণের ৮২ শতাংশ সরকারি খাতে, বাকি ১৮ শতাংশ বেসরকারি খাতে।
গত অর্থবছরে রেকর্ড ৫৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যেই রিজার্ভ বেড়ে জুন শেষে ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৬ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার), প্রায় তিন বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রবাহ এবং রপ্তানি আয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
বর্তমানে ডলারের দর ১২২ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বৃত্ত ডলার কিনে রিজার্ভ শক্তিশালী করছে—চলতি অর্থবছরেই ব্যাংকগুলো থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার।
দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার, ১০ বছরে তা প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সেই হিসাবে বর্তমানে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৮ ডলার বা প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। ১০ বছর আগে এ অঙ্ক ছিল মাত্র ২৫৭ ডলার।