ফজলুর রহমানের বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে নিয়ে তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অসংসদীয় এবং তার বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে তাদেরসহ ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে অপ্রীতিকর ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন। ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াত করতে পারে না— করলে তা ডাবল অপরাধ’—এই বক্তব্যকে তারা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিদাতারা বলেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারা এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।
নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারা বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকা যে কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-তেও যোগ দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব মুক্তিযোদ্ধা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়।

ফজলুর রহমানের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি আওয়ামী লীগের নীতি থেকে সরে এসে একাধিক দল পরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজলুর রহমান ট্রেনিং নেওয়ার পর কোনো অস্ত্র হাতে নেননি এবং মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি কোনো কোম্পানি কমান্ডারও ছিলেন না।

জাতীয় সংসদ ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দলীয় আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের স্থান নয়—এ কথা উল্লেখ করে বিবৃতিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে সংসদে যে হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারা বলেন, বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’-এর নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশ গড়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অন্যথায় দেশ পুনরায় ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। যৌথ বিবৃতিতে আরও সই করেছেন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফজলুল হক, সহ-সভাপতি মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. মতিউর রহমানসহ অন্য নেতারা।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD