চলমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ‘এশিয়া জিরো ইমিশন কমিউনিটি প্লাস (এজেডইসি)’ অনলাইন সামিটে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেন সরকারপ্রধান।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”
তিনি জানান, তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে চায়। এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক সাড়া কামনা করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, সব দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দেশ একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। এজন্য সুসংগঠিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”
সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কিছু স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসের সময়সূচি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি আমদানি তদারকি এবং অপচয় রোধে ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ।
প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,
“বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সেই সংকট অনেক দেশের উন্নয়ন থমকে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের অর্জন বর্তমান পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।”
সম্মেলনটি আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনলাইন এ সামিটে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।





