৭ ছক্কার নায়ক মুকুল: জন্মের আগেই যার ক্রিকেট যাত্রার শুরু

mukul-chaudhary-ipl-100426-01-1775808868.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক খেলা ডেস্ক

আইপিএলের মঞ্চে হঠাৎ আবির্ভাব, আর তাতেই ঝড়—মুকুল চৌধুরি এখন ভারতের নতুন ক্রিকেট সেনসেশন। নিজের তৃতীয় ম্যাচেই অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রে।

আইপিএল-এ লখনৌ সুপার জায়ান্টস-এর হয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর বিপক্ষে এই ইনিংসই বদলে দিয়েছে তার পরিচিতি। ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের এক পর্যায়ে লখনৌর জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ২২ বলে ৫৪ রান। হাতে মাত্র তিন উইকেট। তখনও মুকুলের রান ৮ বলে ২।

এরপরই শুরু হয় ঝড়। প্রথমে বৈভব আরোরার বলে চার ও ছক্কা। এরপর কার্তিক তিয়াগি-র ওভারে দুই ছক্কা। ক্যামেরন গ্রিন-কে মারেন ছক্কা-চার-ছক্কা। শেষ ওভারেও থামেননি।

সাত নম্বরে নেমে ৭ ছক্কায় মাত্র ২৭ বলে ৫৪ রান—এমন ইনিংসেই দলকে এনে দেন ৩ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয়। ম্যাচ শেষে ২১ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটার জানালেন তার গল্প—যা শুরু হয়েছিল তার জন্মেরও আগে।

“বাবার যখন বিয়েও হয়নি, তখনই ঠিক করেছিলেন, ছেলে হলে ক্রিকেটার বানাবেন।” অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ছোটবেলায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। ১২-১৩ বছর বয়সে ক্রিকেটে হাতেখড়ি তার। রাজস্থানের ঝুনঝুনু-তে জন্ম মুকুলের। সেখান থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের সিকার শহরে গিয়ে শুরু করেন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ।

সেখান থেকে পথ পাড়ি দেন জয়পুর-এ, পরে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে যান গুরগাঁও ও দিল্লি-তে। তার ভাষায়, “টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই বেশি ম্যাচ খেলার জন্যই এসব জায়গায় যেতে হয়েছে।”

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে একটি ম্যাচ—সেটিই বদলে দেয় বাবার বিশ্বাস। “লো-স্কোরিং ম্যাচ ছিল, আমি রান করেছিলাম। ওই দিনই বাবা বিশ্বাস করেন, আমি পারব।”

ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বড় পরিসংখ্যান না থাকলেও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি-তে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। ৫ ইনিংসে ১৭৩ রান, প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেট—এরপরই ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় লখনৌ।

প্রথম দুই ম্যাচে বড় কিছু করতে না পারলেও তৃতীয় ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন কেন তার ওপর বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই মাহেন্দ্র সিং ধোনি তার অনুপ্রেরণা। সেই ধোনির মতোই খেলেছেন হেলিকপ্টার শট।

মুকুল বলেন, “আমি সবসময় মেরে খেলতে পছন্দ করি। বল পেলে মারব—এটাই আমার স্টাইল।” চাপের মুহূর্তেও তার ভাবনা ছিল ইতিবাচক। “চাপ তো আছেই। তবে আমি এটাকে সুযোগ হিসেবে দেখি—নিজের নাম তৈরি করার সুযোগ।”

শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাসই জয়ী হয়েছে—“শেষ পর্যন্ত থাকলে ম্যাচ জিতিয়ে দেব”—এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলেছিলেন তিনি। ঝুনঝুনুর অনেক তরুণ যেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, সেখানে মুকুল বেছে নিয়েছেন ক্রিকেট।

তার কথায়, “রক্তে একই জিনিস—ওরা সীমান্তে দেশের জন্য লড়ছে, আমি মাঠে।” মাত্র এক ইনিংসেই আলোচনায় উঠে আসা মুকুল চৌধুরি এখন নজরে সবার। তার গল্প শুধু এক ম্যাচের নয়—এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাসের গল্প।

 

Leave a Reply

scroll to top