চবিতে সংঘর্ষ, সব পরীক্ষা স্থগিত

Untitled-3-68b3db9def226-2508310825.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে ঘটে। সেখানে একটি নারী শিক্ষার্থী স্থানীয় দারোয়ানের হাতে মারধরের শিকার হন। জানা গেছে, ওই ছাত্রী রাতে তার ভাড়া করা ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে দারোয়ান শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান। এই ঘটনা জানাজানি হলে অন্য শিক্ষার্থীরা দারোয়ানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান।

দারোয়ান পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে, স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও লোক জড়ো করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিত রাখা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।” প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে আরও কড়াকড়ি এবং সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা করা।

Leave a Reply

scroll to top