কাদের দখলে সড়ক-ফুটপাত, কারা তোলে চাঁদা?

IMG_20260412_155606.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে নানা ধরনের অবৈধ ব্যবসা। কোথাও ফুল-ফল, কোথাও আবার ভাতের হোটেলসহ অস্থায়ী দোকান বসেছে ফুটপাতজুড়ে। নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় এসব দখল। ফলে নগরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখলের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত এসব অবৈধ বাণিজ্য থেকে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ফুটপাতজুড়ে দখলদারিত্ব
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটারে ফুটপাত রয়েছে। আলুপট্টি, রাজশাহী কলেজ, রেলগেট, গণকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল, ভদ্রা, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুর, কোর্ট স্টেশন, শালবাগান ও নওদপাড়া—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতই দখল হয়ে আছে।
এসব জায়গায় হকার, অস্থায়ী দোকান, পার্ক করা যানবাহন ও দোকানের বর্ধিত অংশ মিলিয়ে ফুটপাত কার্যত অনানুষ্ঠানিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।
হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভোগান্তি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উত্তর পাশের ফুটপাত রোগী ও স্বজনদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে প্লাস্টিক সামগ্রী ও ফলের দোকান বসানো হয়েছে। অবশিষ্ট জায়গাও রিকশা-অটোরিকশার দখলে থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে।
সাহেব বাজার এলাকাতেও ফুল ও ফলসহ নানা দোকান ফুটপাত দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি তালাচাবি মেরামত, গামছা-লুঙ্গি, সুতা-দড়ি, টুপি, বেল্ট, আতর-সুরমা ইত্যাদির দোকানও রয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে দখল দ্রুত ফিরে আসে। এতে শহরে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে এবং পথচারীদের জন্য পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, ফুটপাত ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
অভিভাবকরাও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন অভিভাবক জানান, ফুটপাত না থাকায় সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ফুটপাত দখলের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির যোগসূত্র রয়েছে। হকারদের কাছ থেকেও নিয়মিত টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্বাসন পরিকল্পনার অভাবে এবং ধারাবাহিক নজরদারি না থাকায় দখলদারিত্বের চক্র থামানো যাচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নাগরিকসহ সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Leave a Reply

scroll to top