মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি বড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান সফরের বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তেহরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে।
বর্তমানে দুই দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা হতে পারে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন,
“ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই বিষয়ে ইরান নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে, যা আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ট্রাম্প জানান, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। তার মতে, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে দ্রুতই বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে তিনি নিজে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি পাকিস্তান সফর করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, যদি ইসলামাবাদেই চুক্তি স্বাক্ষরের আয়োজন করা হয়, তাহলে সেখানে তার উপস্থিতির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান অসিম মনিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তান এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
যদিও গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভিন্স-এর পাকিস্তান সফর প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি, তবুও হোয়াইট হাউস নতুন করে আরেক দফা আলোচনার পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরবর্তী বৈঠকে আগের জটিলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। তার ভাষায়, এই ‘পারমাণবিক উপাদান’ সরিয়ে ফেলতে পারলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তবে সম্ভাব্য এই চুক্তির শর্ত, সময়সূচি বা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।





