যৌন হেনস্থা ও সন্ত্রাস তকমা

ভারত ভ্রমণে নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

New-Project-2025-06-23T184050.534.png
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত ভ্রমণে নাগরিকদের জন্য কড়া সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটিজুড়ে অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং যৌন হেনস্থার ক্রমবর্ধমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য ‘লেভেল ২ ট্র্যাভেল অ্যাডভাইজারি’ জারি করেছে, যার অর্থ মার্কিন নাগরিকদের ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
গত ১৬ জুন জারি করা এই নির্দেশিকায় ভারতের বিভিন্ন স্থানকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে, পর্যটন এলাকায় যৌন নির্যাতনের প্রবণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে মহিলাদের একা ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মার্কিন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস কার্যকলাপের ঝুঁকির কারণে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. জম্মু ও কাশ্মীর: শ্রীনগর, গুলমার্গ, এবং পহেলগাঁওকে সন্ত্রাস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২. মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা: মহারাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল, তেলেঙ্গানার উত্তরাঞ্চল, এবং পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলকে মাওবাদী দখলদারিত্বের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. বিশেষ অনুমতি: বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মেঘালয়, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের পূর্বানুমতি নিতে বলা হয়েছে।
৪. মণিপুর: সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মণিপুরে ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভ্রমণ নির্দেশিকা ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “মোদি ও তাঁর সমর্থকরা এবার জোর ধাক্কা খেলেন। যুক্তরাষ্ট্রই বলছে ভারত ধর্ষণ ও সন্ত্রাসে বিপন্ন।” কেরল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোঁচা দিয়ে বলা হয়, “মোদির মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হল।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্রমণ নির্দেশিকা কেবল একটি নিরাপত্তা সতর্কতা নয়, বরং কূটনৈতিকভাবে মোদি সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও একটি বড় আঘাত। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা সত্ত্বেও এমন সতর্কতা ভারতের জন্য বিরাট অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভারত সরকার এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ভারতীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই এই ইস্যুটি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

scroll to top