সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহণমন্ত্রী একটি গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে এ ধরনের দুর্নীতিসহায়ক অপচেষ্টা রোধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজদলে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরিবহণমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তা দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতিহার ও সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পরিবহণ খাতের ‘ক্যান্সার’ হিসেবে পরিচিত চাঁদাবাজিকে ঘিরে মন্ত্রীর মন্তব্য হতাশাজনক।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মন্ত্রী যেভাবে সড়ক ও পরিবহণ খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করে সমর্থন দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক ও যোগসাজশমূলক দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন, এর সরাসরি ভুক্তভোগী পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের ওপর এ অবৈধতার বোঝা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে বৈধতার অজুহাত হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর এবং দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার অপতৎপরতার শামিল।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে অন্যান্য খাতেও একই যুক্তির অপব্যবহার ঘটতে পারে। বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি প্রশাসন, সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, নবগঠিত সরকার যদি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকারে আন্তরিক হয়, তবে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সড়কমন্ত্রী একই ধরনের তত্ত্বের ভিত্তিতে সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল টিআইবি। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করে হতাশা ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড রোধে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় জনমনে হতাশা তৈরি হবে এবং এর সুযোগে এমন শক্তি লাভবান হতে পারে, যাদের আদর্শ ও লক্ষ্য বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।”





