বেআইনি আগ্রাসন বন্ধ না হলে তেহরান থামবে না, যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হয়নি: ইরান

New-Project-72-1.jpg
২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার একদিন পরই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা হামলা বন্ধ করবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এখনো কোনো যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে আকস্মিকভাবে ট্রাম্প একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, ইসরাইল ও ইরান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাবে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে ওঠে। ইরান কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার দাবি করেছে, তারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই নিষ্ক্রিয় করেছে। তবে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ার করে দেন, ইসরাইল যদি আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে ইরানও হামলা চালাতে থাকবে।

এদিকে মঙ্গলবার খুব ভোরে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরার মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকেরা। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, ইসরাইলও হামলা অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বেজে ওঠে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রায় পুরো ইসরাইলে সতর্কতা জারি করা হয়। ইসরাইল জানায়, যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্ত হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতির পথে ইসরাইল এগোতে রাজি হয়।

কূটনৈতিক তৎপরতায় কাতার সরকারও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে। তবে বাস্তব ময়দানে সংঘাত অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

Leave a Reply

scroll to top