মেঘনায় ২৮ যাত্রী নিয়ে ডুবল স্পিডবোট

New-Project-2025-06-23T205906.964.png
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অলৌকিকভাবে ২৮ জন যাত্রীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা স্থানীয়দের তৎপরতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সম্ভব হয়েছে। আজ সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট রুটের বউবাজার এলাকার মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রী নাহেদুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ২৮ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। এটি বউবাজার এলাকায় পৌঁছামাত্র আকস্মিকভাবে বোটের তলা ফেটে যায় এবং দ্রুতগতিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়লেও, স্থানীয়দের দ্রুত সহযোগিতায় সবাই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ফয়সাল অভিযোগ করে বলেন, “বোটটিতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রী ওঠানোর সময় আমরা একাধিকবার বোট চালককে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।”

আরেক যাত্রী জনি আলমও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার বোনসহ ২৮ জন যাত্রী হাতিয়া আসছিলাম। প্রথম থেকেই আমরা চালককে বারবার সতর্ক করেছি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো গুরুত্বই দেননি। স্পিডবোটটির কোনো ফিটনেস ছিল না, এমনকি জীবনরক্ষার কোনো সরঞ্জামও ছিল না।”

যাত্রীরা এসব রুটে চলাচলকারী স্পিডবোটগুলোর নিরাপত্তা মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনি আলম নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এসব রুটে চলা স্পিডবোট মালিকদের কাছে আমাদের জীবন পুতুলের মতো। ফিটনেসবিহীন এসব স্পিডবোটের বিরুদ্ধে প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে দ্বীপের মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।”

এই ঘটনা আবারও নদীপথে যাত্রী পরিবহনের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বোটের ফিটনেস পরীক্ষা না করা এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকার মতো বিষয়গুলো প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “স্পিডবোটটি নদীর তীরে এসে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যাত্রী ও চালকসহ সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে দুর্ঘটনার কারণ এবং বোটটির ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

এই দুর্ঘটনাটি আবারও নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

Leave a Reply

scroll to top