আইনি বাধা পেরিয়ে সাকিবের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন?

ৃ-4.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসান—এমন আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। এবার সেই গুঞ্জনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দলে ফেরাতে চায় বোর্ড।

ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া সাকিব ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়, যার মধ্যে হত্যা মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও রয়েছে। এসব আইনি জটিলতার কারণে তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর আগে দেশে ফেরার উদ্যোগ নিলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে তিনি ঢাকাগামী বিমানে ওঠেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে দেশের মাটিতে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। বিভিন্ন সময়ে নিজের এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে সাকিবকে খেলাতে আগ্রহী বিসিবি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথিপত্র গত সোমবার সরকারের কাছে জমা দিয়েছে বিসিবি। তার আইনজীবী দল প্রস্তুত করা নথি বোর্ডে হস্তান্তর করে, পরে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সাকিবকে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

নতুন সরকারের মনোভাব মন্ত্রিসভা গঠনের পরই স্পষ্ট হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের বিষয়ে মন্ত্রণালয় নমনীয় থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং দেশের এই দুই কিংবদন্তিকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে।

আমিনুল হকের এই মন্তব্যের পরপরই সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করে বিসিবি। তবে মাশরাফির মাঠে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকলেও আর্থিক বা দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাকিব ও মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আওতায়। তারা বাংলাদেশের লেজেন্ডারি ক্রিকেটার। মামলাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করে আমরা চাই তারা দ্রুত দেশে ফিরুক।”

বাংলাদেশ দলের পরবর্তী হোম সিরিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে। তিন ম্যাচের সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ।

ওয়ানডে ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। সাকিবের অনুপস্থিতিতে দল ২৫টি ওয়ানডে খেলেছে; এর মধ্যে ১৭টিতে হেরেছে, জিতেছে মাত্র ৭টিতে।

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেটিং পয়েন্ট ৭৪, অবস্থান ১০ নম্বরে। ঠিক ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠেছে। মার্চে পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই—সাকিবকে নিয়ে, নাকি সাকিব ছাড়া, সেটিই এখন দেখার।

 

Leave a Reply

scroll to top