সংসদ নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিকল্প প্রচারে জোর ইসির

New-Project-2025-06-19T154340.964.png
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার কৌশল পরিবর্তন আনলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এক গুরুত্বপূর্ণ কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ঘোষণা করেছেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীদের প্রচারণার জন্য বিকল্প পথ খোলা রেখেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, প্রার্থীরা বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত মূলত আধুনিক প্রচারণার দিকে ঝোঁক এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর একটি প্রচেষ্টার অংশ।

নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। পোস্টার একদিকে যেমন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি এটি শহরের সৌন্দর্যকেও নষ্ট করে। তাই আমরা এই প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রচার মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছি।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন প্রচারণার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা স্বল্প সময়ে অধিক সংখ্যক ভোটারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারেও নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকবে, যা পরবর্তীতে জানানো হবে।”

এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে যেমন কাগজের অপচয় কমবে এবং পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সাহসী পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ডিজিটাল সংযোগের অভাব রয়েছে, সেখানে প্রার্থীরা কীভাবে প্রচার চালাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইসি আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সহায়ক হবে।

এ সময় ইসি সচিব মো. আখতার আহমেদ এবং এনআইডি ডিজি এসএম হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের বিস্তারিত আচরণবিধি এবং প্রচারণার অন্যান্য দিকগুলো পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা আকারে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

scroll to top