সংসদের শুরুতেই সরকারকে চাপে রাখবে বিরোধী দল

image-271711-1772774601.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকারকে কীভাবে চাপে রাখা যায়, সে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রথমবারের মতো সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনে অনিয়ম, জুলাই সনদ ও গণভোট এবং সুশাসনের প্রশ্নে সরকারকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বিরোধী দল। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনে অনিয়ম এবং জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুই থাকবে তাদের মূল ফোকাস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল ও নতুন মুখের আগমনের আলোচনার মধ্যেই সংসদের এই অধিবেশন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদ প্রাণবন্ত ও কিছুটা উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিরোধীদলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, রাজপথের পরিবর্তে সংসদকেই তারা প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এজন্য ইতোমধ্যে দলটির সংসদ সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই কর্মশালায় প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ শিরোনামের এই কর্মশালায় অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা নবীন এমপিদের দায়িত্ব ও বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে বিরোধী দলের সমর্থন থাকবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। সংশোধন না হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে।

বিরোধী দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, সংসদ হলো জনগণের কথা বলার জায়গা। সরকারকে প্রতিটি প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বিরোধী দল দেবে না।

এদিকে বিরোধী দলের সম্ভাব্য সমালোচনা মোকাবিলায় সরকারি দলও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে সংসদ সদস্যদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় রীতি মেনে সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন দলীয় সূত্র।

সংসদ অধিবেশন সামনে রেখে সরকারি দল বিএনপি আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার তাদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৭টি আসনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫০ জন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের নির্বাচিত এমপিদের প্রায় ৮০ শতাংশই নতুন।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সাধারণত সংসদের প্রথম অধিবেশন তুলনামূলক দীর্ঘ হয়। প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন, শোক প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অধিবেশনজুড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

 

Leave a Reply

scroll to top