অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: চাকরির বাজারে অস্থিরতা

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পেরিয়ে গেলেও চাকরির বাজারে আশাব্যঞ্জক উন্নতি দেখা যায়নি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে হওয়া আন্দোলনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি সীমিত থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র, আর হাজারো স্নাতকের জন্য উপযুক্ত চাকরির সুযোগ কমেছে।

অর্থনৈতিক সূচক বলছে, নতুন শিল্প ইউনিট চালু হয়নি; অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে—কারখানার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমেছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও আগের বছরের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা মূল্যস্ফীতি ও অর্থের অভাবে কার্যক্রম সংকুচিত করেছেন।

বিনিয়োগ হ্রাসের পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতিমালা বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষতা ও চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে ফারাকও সংকট বাড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান জানান, জরিপে দেখা গেছে—৫০ শতাংশের বেশি চাকরিপ্রার্থী সাক্ষাৎকারের সুযোগও পাননি।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালে শিল্পখাতে শ্রমিক কমেছে প্রায় এক লাখ; ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় দেশীয় বেকারত্বের চাপ বেড়েছে।

যুবঋণ, নারীদের জন্য বিশেষ তহবিল, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও বিদেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—এগুলো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ; তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শ্রম সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও বাস্তবায়ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পিছিয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ ছাড়া কর্মসংস্থান সঙ্কট কাটানো সম্ভব নয়। দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD