আবোরো বড়লো তেলের দাম

bbbcb30189e8b308c57567b4634ece74.jpeg
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ ঘণ্টা ডেস্ক

বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় ০৪:০০টায় ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ৪৪ ডলারে। এর আগের দিন সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম উঠে যায় ৮২ দশমিক ৩৭ ডলারে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে, যা দামে প্রভাব ফেলছে।

একই সঙ্গে বেড়েছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও। মঙ্গলবার ডব্লিউটিআই ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি দাম ১ দশমিক ১৭ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ ডলার ৪০ সেন্টে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে এ তেলের দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করায় বাজারে কেনাবেচায় চাপ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেছেন, তেলের দাম দ্রুত কমার কোনও ইঙ্গিত নেই। তাঁর ভাষ্য, “হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের দাম তত বাড়বে।” তাঁর মতে, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। এ পথে চলাচল ব্যাহত হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

Leave a Reply

scroll to top