চার দাবি নিয়ে সচিবালয়ে গেছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা। এই দাবিগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দাবিগুলো হলো- জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, রাষ্ট্রের অঙ্গীকার ও দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা এবং স্মৃতি সংরক্ষণ ও ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা।
জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর সন্তানদের জুলাই শহীদ (জাতীয় বীর) হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। আন্দোলনে আহত, নির্যাতিত ও সংগ্রামী নাগরিকদের জুলাই যোদ্ধা (বীর) হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
রাষ্ট্রের অঙ্গীকার ও দায়িত্ব: শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য আজীবন সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা, আবাসন ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র তাদের প্রতি পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং সকল কল্যাণ মূলক ব্যয় সরাসরি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে বহন করতে হবে। আহত ও শহীদ পরিবারদের জন্য সম্মানজনক আজীবন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে, যা তাদের নাগরিক অধিকার হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
এই পরিবারগুলোর প্রতি অবহেলা, বৈষম্য বা অধিকারহরণ ঘটলে তা রাষ্ট্রদ্রোহী বা বিশেষ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ আইনি সহায়তা কেন্দ্র ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে।
ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দমন-পীড়ন, গুলি, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একটি স্বাধীন সত্য ও ন্যায় গঠন করতে হবে, যেখানে প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা তাদের সাক্ষ্য ও অভিজ্ঞতা পেশ করতে পারবেন। কমিশনের প্রতিবেদন রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতির ইতিহাসের অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে উন্মুক্ত থাকবে।
স্মৃতি সংরক্ষণ ও ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে প্রতি বছর জুলাই গণতন্ত্র দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে জুলাই স্মৃতি সৌধ ও জাদুঘর নির্মাণ করতে হবে, যেখানে শহীদদের নাম, ছবি ও জীবনী সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ ইতিহাস থেকে প্রেরণা পায়।





