মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিতসংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মেরিটাইম গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সোমবার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় প্রণালীতে ইরানি পতাকাবাহী নয়—এমন ৮টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষক মাইকেল ওয়াইস বকম্যান বলেন, ক্রমেই বেশি সংখ্যক জাহাজ ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে রুট পরিবর্তন করছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান ‘বন্ধুসুলভ দেশগুলোর জন্য অনুমতিভিত্তিক পারাপার’ চালু করেছে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা দেশ-সম্পৃক্ত জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করবে না। তবে চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের জাহাজ এ সুযোগ নিতে পারে।
আরেকটি ট্র্যাকিং সেবা মেরিন ট্র্যাফিক জানায়, রোববার ও সোমবার মিলিয়ে মোট ৯টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে, যেখানে আগের দুই দিনে ছিল মাত্র ৫টি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
বর্তমানে পাকিস্তান, চীন ও ভারতের পতাকাবাহী কিছু জাহাজ ছাড়া অন্যদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে।
এ অবস্থায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার বলেন, প্রণালীটি খোলা থাকলেও ‘শত্রুদের জন্য বন্ধ’। এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটনের অন্য দেশের সহায়তার প্রয়োজন নেই। ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে তিনি জানান, এই জলপথ নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে তারা সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের একটি সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ওই ঘাঁটিতে থাকা জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।





