বাড়লো গ্যাসের দাম

1772471554-5dde3ec80fa171613f355d3499aaa1c8.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক আর্ন্তজাতিক

ইরানের হামলার জেরে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান QatarEnergy তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর পরপরই ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়; পাইকারি গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সোমবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কাতারের Ras Laffan Industrial City ও Mesaieed Industrial City–এ তাদের পরিচালিত স্থাপনাগুলো সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যাচাই করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একটি ড্রোন মেসাইয়িদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হানে এবং অন্যটি রাস লাফানে অবস্থিত জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত করে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

একই সময়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Saudi Press Agency (এসপিএ) জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত Ras Tanura Refinery–তে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়। ড্রোন দুটি ভূপাতিত করার পর সীমিত আকারে আগুন লাগে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম এবং এটি সৌদি জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।

এই হামলার প্রভাব দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপে গ্যাসের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ডাচ টিটিএফ গ্যাস চুক্তির মূল্য এক পর্যায়ে ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। জিএমটি সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা গ্যাসের দাম দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪০ ইউরো, যা আগের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৪ ইউরো বেশি। এশিয়ায় বহুল ব্যবহৃত এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম)–এর দামও বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ০৬৮ ডলারে পৌঁছায়।

তেলবাজারেও অস্থিরতা দেখা যায়। দিনের লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম এক পর্যায়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল; কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার পর তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

এ হামলার সময় Strait of Hormuz–এর দুই প্রান্তে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জটলা তৈরি হয়। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং কাতারের অধিকাংশ গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

scroll to top