যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা মূল্যায়ন সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (QS) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬’-এ আবারও দেশসেরা অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। তবে তালিকায় কিছুটা পিছিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ৫৫৪তম। এবার তা সেখান কিছুটা নেমে ৫৮৪তম স্থানে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কিউএস তাদের ওয়েবসাইটে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এতে বিশ্বের ১ হাজার ৫০১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে- সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শীর্ষ তিনে রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU)।
ঢাবির পরের অবস্থানে থাকা বুয়েটের র্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই এটি রয়েছে ৭৬১–৭৭০ অবস্থানে। আর NSU পিছিয়ে গেছে ৯৫১–১০০০ অবস্থানে যেখানে গত বছর ছিল ৯০১–৯৫০ রেঞ্জে।
ঢাবির সূচকভিত্তিক স্কোর
কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোর ২৮.৭০। সূচকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়— একাডেমিক খ্যাতি: ৩০.৫০, প্রতি শিক্ষক গবেষণা-উদ্ধৃতি: ৬.৯০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত: ১০.৫০, চাকরির ফলাফল: ৯৭.০০, চাকরি বাজারে সুনাম: ৫১.৩০, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক: ৫৭.৮০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত: ২.২০, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত: ১.৪০, আন্তর্জাতিক ছাত্র বৈচিত্র্য: ১.৩০, টেকসই উন্নয়ন সূচক: ৫৪.২০।
তবে ইন্টারন্যাশনাল ফি, স্কলারশিপ, ইংলিশ টেস্ট ও একাডেমিক টেস্ট সূচকে ঢাবির কোনো স্কোর নেই। ‘স্টুডেন্ট মিক্স’ সূচকে ১০০% দেশীয় শিক্ষার্থী থাকায় আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য একেবারেই নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান
কিউএস তালিকায় এবার বাংলাদেশ থেকে স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ১০০১–১২০০: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ১২০১–১৪০০: ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪০০+: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB), চুয়েট, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, রুয়েট
শীর্ষস্থানীয় বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
গ্লোবাল র্যাঙ্কিংয়ে টানা ১৩ তমবারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
র্যাঙ্কিং পদ্ধতি
QS র্যাঙ্কিং এখন ৯টি সূচকে ১০০ স্কোর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করে। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে— গবেষণা, শিক্ষণ অভিজ্ঞতা, চাকরির সম্ভাবনা, বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা, টেকসই উন্নয়ন, স্কলারশিপ, স্টুডেন্ট মিক্স, ইংলিশ টেস্ট ও একাডেমিক টেস্ট। ২০১০ সাল থেকে কিউএস এই র্যাঙ্কিং স্বাধীনভাবে প্রকাশ করে আসছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবারও দেশসেরা অবস্থান ধরে রাখলেও সূচক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে— আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা ও শিক্ষার মানে আরও উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মান দন্ডের দিক থেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।





