জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের স্মরণে ড্রোন শোতে ঝলমল ঢাকার আকাশ

Screenshot_2-2507150355.png
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার আকাশ স্মৃতির আলোয় উদ্ভাসিত হলো ১৪ জুলাই মধ্যরাতে, যখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী ড্রোন শো—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদানকে স্মরণে রেখে। ‘জুলাই উইমেনস ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রযুক্তিনির্ভর শৈল্পিক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় ইতিহাসের অনলস মুহূর্ত, আন্দোলনের দীপ্ত ছবি এবং নারীদের শৌর্যের গাথা।

শোতে ব্যবহৃত হয় হাজারো সমন্বিত ড্রোন, যারা আকাশজুড়ে গড়ে তোলে ইতিহাসের জীবন্ত ক্যানভাস। আন্দোলনের প্রতীকী চিত্র, বিপ্লবী স্লোগান, এবং স্মরণীয় উক্তিগুলো ভেসে ওঠে রাতের আকাশজুড়ে। শোভাটি দেখতে হাজির হয় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী। চোখেমুখে ছিল বিস্ময়, আবেগ আর গর্বের দীপ্তি।

ড্রোন শোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ১৯৬৯ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের নারীদের সাহসিকতা ও সংগ্রামের প্রতিচিত্র। সেই সাথে আকাশে ফুটে ওঠে বিপ্লবের বিভিন্ন স্লোগান ও রাজনৈতিক বার্তা—যা একসময় আন্দোলনকারীদের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিল। “তুমি কে, আমি কে—রাজাকার, রাজাকার”, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু”, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের বিতর্কিত বক্তব্য—“মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?”—সবই ধ্বনিত হয় আকাশের উচ্চতায়, হাজারো আলোর বিন্যাসে।

শো’র এক বিশেষ অংশে শ্রদ্ধা জানানো হয় ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে। তুলে ধরা হয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের শহীদদের প্রতিকৃতি—যেমন বুয়েটে ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদ এবং চলতি বছর ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলায় আহত শিক্ষার্থী তন্বী। বিডিআর বিদ্রোহ, শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিচ্ছবিও শোয়ের পরতে পরতে উদ্ভাসিত হয়।

এই ব্যতিক্রমী ড্রোন শো কেবল এক চিত্রায়ন নয়—এটি ছিল এক জাতীয় চেতনাজাগানিয়া বার্তা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার, স্মৃতিকে জাগিয়ে রাখার এবং প্রতিরোধ ও সম্মানের পাঠ শেখানোর এক নান্দনিক প্রয়াস। রাজধানীর আকাশে এই শো হয়ে থাকবে এক গর্বিত স্মারক, এক দৃপ্ত ঘোষণা—বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির সশস্ত্র উড্ডয়ন।

Leave a Reply

scroll to top