নতুন এক গবেষণায় ধূমপান ছাড়ানোর ক্ষেত্রে ‘ম্যাজিক মাশরুম’-এর সম্ভাবনাময় ভূমিকা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ম্যাজিক মাশরুম’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদানকে থেরাপির সঙ্গে যুক্ত করলে ধূমপান ছাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এই থেরাপি নিয়েছিলেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি ছয় মাস পরও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে পেরেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ নিকোটিন প্যাচ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। গবেষকদের মতে, এই উপাদানটি সরাসরি শরীরের ওপর কাজ না করে মানুষের চিন্তাভাবনা ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, থেরাপির পর তারা ধূমপানকে আর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেননি।
একজন গবেষক বলেন, এটি মানুষের চিন্তার ধারা বদলে দিতে পারে, ফলে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ভাঙা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপাদানের পাশাপাশি আচরণগত থেরাপি ও মানসিক সহায়তা যুক্ত হলে ফল আরও ইতিবাচক হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। বৃহত্তর ও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ওপর এর কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অতীতে এলএসডি, এমডিএমএসহ বিভিন্ন মানসিক প্রভাবকারী উপাদান ব্যবহার করে আসক্তি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের উপাদান মস্তিষ্কে নতুনভাবে শেখার প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে পারে, যা দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তনে সহায়ক।
তবে তারা একমত, আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে একক কোনো পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক চিকিৎসা, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।
গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে ধূমপান ছাড়ানোর চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে—যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: বিবিসি