বই পড়লে জেলের সাজা কমে—শুনতে অবাক লাগলেও এমন উদ্যোগ বহুদিন ধরেই চালু আছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল-এ। বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।
‘রিডেম্পশন থ্রু রিডিং’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় কোনো বন্দি একটি বই পড়ে তার ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত প্রতিবেদন বা সারসংক্ষেপ জমা দিলে চার দিন পর্যন্ত সাজা কমানোর সুযোগ পান। তবে এ সুবিধা সীমাহীন নয়। বছরে সর্বোচ্চ ১২টি বই পড়ে মোট ৪৮ দিন পর্যন্ত সাজা হ্রাস করা যায়।
কেবল বই পড়লেই হবে না, জমা দেওয়া প্রতিবেদনের মানও গুরুত্বপূর্ণ। কারাগারের একটি বিশেষ কমিটি লেখা যাচাই করে। প্রতিবেদনে বিষয়বস্তুর সঠিক অনুধাবন, বিশ্লেষণক্ষমতা, ভাষার ব্যবহার ও ব্যাকরণ—সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। কমিটি সন্তুষ্ট হলেই সাজা কমানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং চিন্তা ও আত্মোন্নয়নের একটি প্রক্রিয়া।
সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বন্দিদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে সরিয়ে আনা। কারাগারে দীর্ঘ সময় কাটানো ব্যক্তিরা যাতে সমাজে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এ ব্যবস্থা।
ব্রাজিলে কারাগারগুলোর বড় একটি সমস্যা হলো ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি। পাঠভিত্তিক সাজা হ্রাসের সুযোগ একদিকে যেমন বন্দিদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করছে, অন্যদিকে কারাগারের চাপও কিছুটা লাঘব করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই কর্মসূচি চালুর পর অনেক বন্দির মধ্যেই বই পড়ার আগ্রহ বেড়েছে এবং সহিংস আচরণও কমেছে।
কারা সংস্কার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, শাস্তির পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই আধুনিক দণ্ডব্যবস্থার লক্ষ্য। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ব্রাজিলের এই উদ্যোগকে কারাগার সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





