ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) মাঠে নামে বাংলাদেশ। এদিন চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। এতে করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় তো বটেই, হোয়াইটওয়াশেরও স্বাদ নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের জয় নিশ্চিত করতে হাফ সেঞ্চুরি মাধ্যমে মুখ্য ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক রস্টন চেজ এবং তরুণ ব্যাটার অ্যাকিম অগাস্টে।
এদিন ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই মাত্র ১ রানে আউট হন অ্যালিক আথানাজে। মাহেদি হাসানের বলে লিটন দাসের স্টাম্পিংয়ে বিদায় নেন তিনি।
এরপর কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার আমির জানগু, ২৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, তবে রিশাদ হোসেনের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন।
এসময় উইন্ডজ শিবিরে দেখা দেয় ভরাডুবির। দলের এই ভরাডুবি সামাল দেন ক্যারিবীয় দুই অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখ রস্টন চেজ ও অ্যাকিম অগাস্টে। তারা চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৯১ রানের জুটি। চেজ ২৯ বলে ৫০ রান (৫ চার, ১ ছক্কা), অগাস্টে ২৫ বলে ৫০ রান করেন (১ চার, ৫ ছক্কা)। তবে শেষ দিকে দুজনকেই শিকার করেন টাইগার তারকা রিশাদ।
শেষদিকে বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন রিশাদ।
এর আগে, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ ধীরস্থির। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৯ রান করে আউট হওয়ার পরই শুরু হয় ব্যাটিং বিপর্যয়। এরপর অধিনায়ক লিটন দাস (৬), সাইফ হাসান (২৩), এবং ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন রিশাদ হোসেন।
এক প্রান্তে যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছে, তখন অপর প্রান্তে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে যান তানজিদ হাসান। তিনি ৬২ বল মোকাবিলা করে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ৮৯ রানের অনন্য ইনিংস।
দলের অন্য কোনো ব্যাটার তার সঙ্গে বড় জুটি গড়তে না পারলেও তানজিদের ব্যাটে ভর করেই লড়াইযোগ্য স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। শেষদিকে জাকের আলি (৫), নুরুল হাসান (১), ও নাসুম আহমেদ (১) রান যোগ করেন।
তবে বাংলাদেশের উইকেট যেন আসা-যাওয়ার মিছিল। দলীয় ১৪২ রানেই বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারায়। যার মধ্যে তানজিদের উইকেটও আছে। তাসকিন আহমেদের ৪ বলে ৯ রানে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে ১৫১ রানে।
এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন রোমারিও। এছাড়া ২টি করে উইকেট শিকার করেন জেসন হোল্ডার ও খারি পিয়েরে।
এমএ





