সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই জুলাই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে এ তথ্য দেন তিনি।
এদিন সকালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন সাবেক আইজিপি মামুন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে পুলিশে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। অনেক কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। প্রায় রাতেই তারা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায় বৈঠক করতেন। সেসব বৈঠক গভীর রাত পর্যন্ত চলত।
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবি প্রধান হারুনুর রশীদ, এসবির মনিরুল ইসলাম, ঢাকার ডিআইজি নুরুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার, এএসপি কাফী, ওসি মাজহার ও ফোরকান অপূর্বসহ আরও অনেক কর্মকর্তা এসব বৈঠকে অংশ নিতেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে শেখ হাসিনারও সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
মামুন বলেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকায় এসব কর্মকর্তা চেইন অব কমান্ড মানতেন না। পুলিশে গড়ে ওঠা দুটি গ্রুপ এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। নেতৃত্বদানকারীরা চাইতেন তাদের লোকজন ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকুক।
র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে টিএফআই সেলসহ বিভিন্ন বন্দিশালার কথাও আদালতকে জানান মামুন। নিজের দীর্ঘ চাকরি জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৩৬ বছরের চাকরিতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল না। কিন্তু দায়িত্বকালীন সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমি রাজসাক্ষী হয়েছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। শহীদ পরিবার, আহত মানুষ, দেশবাসী ও আদালতের কাছে ক্ষমা চাইছি।”
জবানবন্দির পর শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাকে আংশিক জেরা করেন।
মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর চিত্র উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনায় শেখ হাসিনা ও কামালসহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এর আগে গত ১০ জুলাই মামুন ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সত্য। তিনি তখনও রাজসাক্ষী হওয়ার ঘোষণা দেন। একই দিন আদালত শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় প্রসিকিউশন। এতে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪,০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।