শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র নিম্নমানের কিটে ভুল রিপোর্ট, বাড়ছে হেপাটাইটিস-এইচআইভি ছড়ানোর শঙ্কা দেশের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে কী বেশি খোঁজে? চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল, বিমানবন্দরে বিদায়ী সংবর্ধনা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আট বছরে ৩০০ খুন, শতাধিক নতুন মাদকের আখড়া

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প দিন দিন পরিণত হচ্ছে অস্থিরতার কেন্দ্রস্থলে। খুন, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার—সবকিছুর ভিড়ে আট বছরে এখানে খুন হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন রোহিঙ্গা। নিহতদের মধ্যে আছেন কমিউনিটি নেতা, মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষ। শুধু গত এক বছরেই ক্যাম্পে গড়ে উঠেছে শতাধিক নতুন মাদকের আখড়া।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আট মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১০ ধরনের অপরাধে ২৫০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ১৮টি, মাদক মামলা ১৫০টি, অপহরণ ৫০টি এবং ধর্ষণ মামলা হয়েছে ১২টি। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩ শতাধিক খুনের ঘটনায় দায়ের হয়েছে ২৮৭টি মামলা।

ক্যাম্পবাসীরা বলছেন, মানবপাচার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটছে। অনেক সময় মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃতদের খুনও করছে সন্ত্রাসীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে অন্তত ১০টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। টেকনাফের আবদুল হাকিম বাহিনী সবচেয়ে তৎপর। তারা নিয়মিত অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা ব্যবসা, মানবপাচার ও ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত।

একসময় আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) ছিল প্রধান সন্ত্রাসী সংগঠন। সংগঠনের প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনী গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ড কিছুটা কমলেও অপহরণ, মাদক ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। গত এক বছরে ক্যাম্পে শতাধিক মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। বর্তমানে চার শতাধিক স্থানে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন হচ্ছে।

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় এখন রোহিঙ্গাদের জন্য নিত্যদিনের আতঙ্ক। লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা কালা মিয়া জানান, মে মাসে তাকে অপহরণ করে দুই দিন নির্যাতন চালানো হয় এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান। একইভাবে সাবের আলম নামে আরেক রোহিঙ্গা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পান।

৮-এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা ১৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। সদস্যসংখ্যা অপ্রতুল হলেও আমরা দিনরাত কাজ করছি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, খুনও কিছুটা কমেছে।”

গত এক বছরে ক্যাম্প থেকে অর্ধলাখ ইয়াবাসহ ১১৬ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গত ১৮ মাসে অন্তত ৩০০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে, যাদের অনেকেই মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রবেশ করা মাদকের মাত্র ১০ শতাংশ ধরা পড়ে। সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ ঢুকছে। রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা কারখানা থেকে এসব মাদক রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে। ফলে ক্যাম্পগুলো এখন ‘মাদকের হটস্পট’।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, “হত্যাকাণ্ড কিছুটা কমলেও মাদক ও অপহরণ বেড়েছে। ক্যাম্পে প্রতিদিন ভয়ভীতির মধ্যে মানুষ বসবাস করছে। একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত প্রত্যাবাসন।”

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD