গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত স্বাধীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের পোড়াবাড়ি র্যাব-১ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার এসপি কে এম এ. মামুন খান চিশতী।
তিনি বলেন, “তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহানগরীর শিববাড়ি এলাকা থেকে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে এবং নিজে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।”
এদিকে, সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম, আল আমিন, সুমন, মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং মো. শাহ জালাল (৩২)।
জিএমপি জানায়, কেটু মিজান ও তার স্ত্রীকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে, আল আমিনকে রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে এবং স্বাধীনকে হোতাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয় চাপাতি ও সুইচ গিয়ারসহ।
অন্যদিকে, পাবনার পাচবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল হাসান এবং কুমিল্লার হোমনা থানার বাসিন্দা শাহ জালালকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার সবার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ‘শাপলা ম্যানশন’-এর সামনে বাদশা মিয়া নামে একজন ব্যক্তি এক নারীকে মারধর করেন। ওই সময় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে আঘাত করে। এ ঘটনার ভিডিও করেন সাংবাদিক তুহিন। তুহিনের ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে হামলাকারীরা তাকে ভিডিও ডিলিট করতে বলে। তুহিন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে অস্বীকার করেন। এর জেরে পাশের একটি মার্কেটের সামনে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।