ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার মেজর সাদিকুল হকের স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া ফেসবুকের ‘ওডিবি-এম-১৭০১’ বা অপারেশন ঢাকা ব্লকেড গ্রুপের অ্যাডমিন ছিলেন। ওই গ্রুপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ডাটা এন্ট্রি, গোপন কোড তৈরি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গুগল শিট, সিগন্যাল ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টদের একত্রিত করতেন।
ডিবির প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও ফ্ল্যাটে সুমাইয়া ও তার স্বামী একাধিকবার রাষ্ট্রবিরোধী গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন। পূর্বাচলের সি-সেল রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস এবং উত্তরার প্রিয়াংকা সিটির একটি ফ্ল্যাটে এসব বৈঠক হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম গতিশীল করা, সমর্থকদের উৎসাহিত করা এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা। প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যেও কয়েকবার একত্রিত হন তারা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ৮ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গোপন বৈঠকে ৩০০–৪০০ জন অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা হয়।
এ ঘটনায় ১৩ জুলাই ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মণ্ডল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সুমাইয়ার সম্পৃক্ততা এবং অন্য কারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





