সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ‘জ্বীন’ নামে ডাকতেন—এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় দেয়া ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের অনিয়ম, গুম, খুন, এবং ২০২৪ সালের ‘জুলাই আন্দোলন’ দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন সাবেক এই পুলিশ প্রধান।
জবানবন্দিতে মামুন জানান, গত বছরের ১৯ জুলাই থেকে নিয়মিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গোপন বৈঠক হতো। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, এসবির প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপির ডিজি, এনটিএমসির প্রধান জিয়াউল আহসানসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন। এসব বৈঠকেই আন্দোলন দমনের রূপরেখা তৈরি হতো।
মামুন আরও জানান, এক কোর কমিটির বৈঠকে ছয়জন সমন্বয়ককে আটকের সিদ্ধান্ত হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাদের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা এবং সেই বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা।
সবচেয়ে আলোচিত অংশ জবানবন্দির সেই জায়গা, যেখানে আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। মামুন বলেন, এই সিদ্ধান্ত আসে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে, যার পরিকল্পনায় ছিলেন তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক হারুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ কথা জানিয়ে দেন।
তিনি বলেন, “মারণাস্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে উৎসাহী ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।”
সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট নিজের অবস্থান সম্পর্কেও জবানবন্দিতে তথ্য দেন মামুন। জানান, সেদিন বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি হেলিকপ্টারে করে তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান এবং সেখান থেকে সেনানিবাসে আশ্রয় নেন।
জবানবন্দির শেষাংশে পুলিশ প্রধান হিসেবে আন্দোলনে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় অনুতপ্ত বলে জানান মামুন। ক্ষমাও চান তিনি। তবে ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দির কোথাও সরাসরি নিজের অপরাধ বা সম্পৃক্ততা স্বীকার করেননি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি থেকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছে। তিনি ‘সম্পূর্ণ সত্য’ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজসাক্ষীর আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।





