বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ জুলাই) ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে জামায়াতের সঙ্গে এবার কোনো জোট হচ্ছে না।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “অতীতে কৌশলগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে আমরা একাধিকবার জোট করলেও এবার তাদের সঙ্গে নির্বাচন করার প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। আমাদের অগ্রাধিকার এখন সেই রাজনৈতিক শক্তিগুলো, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “তারা আন্দোলনে রয়েছে, মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে আছে। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। সময়মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হচ্ছে। যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সারসংক্ষেপে পৌঁছাতে না পারলে নির্বাচনী প্রস্তুতি বিঘ্নিত হতে পারে।”
তিনি বলেন, “সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় এখন একসূত্রে গাঁথা। তাই এগুলোর অগ্রগতি একসঙ্গেই হওয়া দরকার।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ব্যবস্থাগতভাবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এখন কেবল আপিল বিভাগের রিভিউ রায়ের অপেক্ষায়। যদি বিকল্প কোনো কাঠামোতে ঐকমত্য না হয়, তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে।”
তবে কে হবেন প্রধান উপদেষ্টা—এই প্রশ্নে এখনো বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।
আসন্ন নির্বাচনে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মতো দেশে এমন পদ্ধতির প্রয়োগ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। এতে ভোটার-প্রার্থী সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয় এবং স্থানীয় প্রতিনিধি বাছাইয়ের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।”
তার মতে, “এ পদ্ধতিতে একটি এলাকায় কেউ জিতলেও অন্য এলাকার কাউকে এমপি বানানো যায়। এতে জনপ্রতিনিধিত্বের মৌলিক ধারণাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী মাফিয়া কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। তাদের ইতিহাসে কখনো গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তারা রাষ্ট্রকে দখল ও শোষণের হাতিয়ার বানিয়েছে। দেশের মানুষ আর তাদের ফাঁদে পা দেবে না।”





